দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে সন্দেহভাজন কিশোরদের আটকের পর থানায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় থানার একটি কক্ষের দরজা ভেঙে কয়েকজন কিশোর বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও পুলিশ বলছে, অভিভাবকদের ভিড় ও হট্টগোলের মধ্যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে আটক কিশোরদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযান শেষে সন্দেহভাজন কয়েকজন কিশোরকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আটক কিশোরের সংখ্যা ও থানায় ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে। বাংলাদেশ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনভর অভিযানে ২৮ জন কিশোরকে আটক করা হয়। পরে রাতের দিকে তাদের স্বজনেরা থানায় জড়ো হলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই প্রতিবেদনে ২২ কিশোর দরজা ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থানার পাশের একটি পার্ক থেকে ১৭ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। পরে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে ডিউটি অফিসারের কক্ষে ভাঙচুর চালায় এবং চেয়ার-টেবিল উল্টে দেয়।
ঢাকা পোস্ট ও আমার দেশসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও ১৭ কিশোর দরজা ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে পুলিশ এ ঘটনাকে বড় কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছে না।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের বরাতে বাংলাদেশ টাইমস জানিয়েছে, অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরির কারণে ২৮ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছিল। পরে তাদের স্বজনেরা থানায় জড়ো হলে ভিড়ের সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ছয়জনের যাচাই-বাছাই তখনও চলছিল।
তবে আজকালের খবরের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দাউদকান্দি মডেল থানা ও গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ৫৯ কিশোরকে আটক করেছিল। তাদের মধ্যে ২৮ জনকে একটি কক্ষে রাখা হয় বলে প্রতিবেদনে ওসির বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লায় সম্প্রতি ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ বুধবার জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দাউদকান্দি থানার ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে আটক কিশোরের সংখ্যা, দরজা ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার সংখ্যা এবং থানায় ভাঙচুরের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গেও কিছু প্রতিবেদনের বর্ণনায় পার্থক্য রয়েছে।
তবে আটক কিশোরদের সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এমন কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছিল। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাদের সবাইকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি। ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা থাকায় প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
যে আই